ফৌজদারি মামলায় কখনো কখনো এমন অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে আইনের সাধারণ ধাপ মেনে চললে ন্যায়বিচারই ব্যাহত হতে পারে। হয়রানিমূলক মামলা, আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বা ভুল আদেশের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। সেটিই ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১এ ধারা।

একটি জরুরি স্পষ্টীকরণ: অনেকে ভুল করে ৫৬১এ ধারাকে “পেনাল কোডের” ধারা বলেন। আসলে এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা। পেনাল কোড (১৮৬০) বলে কোন কাজ অপরাধ ও তার শাস্তি কী, আর কার্যবিধি বলে মামলা কীভাবে চলবে।

এক নজরে ৫৬১এ ধারা

  • আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
  • কার কাছে আবেদন: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
  • প্রকৃতি: অন্তর্নিহিত ও ব্যতিক্রমী ক্ষমতা
  • তিন উদ্দেশ্য: আদেশ কার্যকর করা, আদালতের অপব্যবহার রোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
  • সবচেয়ে প্রচলিত ব্যবহার: মামলার কার্যধারা বাতিল (quashing)

এই লেখায় যা থাকছে

  1. ৫৬১এ ধারা কী বলে?
  2. এটি নতুন ক্ষমতা নয়, অন্তর্নিহিত ক্ষমতার স্বীকৃতি
  3. কোন ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়?
  4. সীমাবদ্ধতা
  5. বিশেষ আইনে আপিলের মেয়াদ পার হলে করণীয়
  6. কখন আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?
  7. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
  8. তথ্যসূত্র: রায়ের লিংক
:ধারা ৫৬১এ
সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ। ৫৬১এ ধারার আবেদন হাইকোর্ট বিভাগেই করতে হয়।

৫৬১এ ধারা কী বলে?

ধারাটির সারকথা হলো, কার্যবিধির কোনো বিধানই হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে সীমিত বা ক্ষুণ্ণ করবে না। এই ক্ষমতায় হাইকোর্ট বিভাগ তিনটি উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে।

আদেশ কার্যকর করতে। কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশ বাস্তবায়নের জন্য।
অপব্যবহার রোধ করতে। কোনো আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ঠেকানোর জন্য।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে। অন্য যেকোনোভাবে ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করার জন্য।[৯]

সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছে, এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয় এবং এর প্রয়োগের পরিস্থিতিও আগে থেকে নির্ধারিত নয়।[২] অর্থাৎ ক্ষমতাটি সচেতনভাবেই নমনীয় রাখা হয়েছে, যাতে অপ্রত্যাশিত অন্যায় ঠেকানো যায়।

এটি নতুন ক্ষমতা নয়, অন্তর্নিহিত ক্ষমতার স্বীকৃতি

৫৬১এ ধারা হাইকোর্টকে নতুন কোনো ক্ষমতা দেয়নি। আগে থেকে থাকা অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে এটি কেবল স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সংরক্ষণ করেছে। একটি রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারার শিরোনাম “অন্তর্নিহিত ক্ষমতার সংরক্ষণ” এবং এটিই ক্ষমতার ব্যাপ্তি বোঝার মূল চাবিকাঠি।

সহজ ভাষায়: আইনে সব পরিস্থিতির জন্য আলাদা ধারা থাকে না। যেখানে আইন নীরব অথচ অন্যায় ঘটতে যাচ্ছে, সেখানে ন্যায়বিচারের শেষ ভরসা হিসেবে এই ধারা কাজ করে।

কোন কোন ক্ষেত্রে ৫৬১এ ধারায় আবেদন করা হয়?

বাস্তবে এই ধারায় যে ধরনের আবেদন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়:

মামলার কার্যধারা বাতিল (Quashing)

অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, মামলাটি আইনগতভাবে চলতে পারে না বা হয়রানিমূলক। আদালতের রায়ে প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা এবং চেক ডিজঅনার মামলার কার্যধারা বাতিলের আবেদনের উদাহরণ পাওয়া যায়।[৫][৬][৭]

নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল বা সংশোধন

আমলে গ্রহণ, অভিযোগ গঠন বা জামিন সংক্রান্ত আদেশ চ্যালেঞ্জ করার জন্যও এই ধারায় আবেদন করা হয়।

অন্তর্বর্তী আদেশ

বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশের মতো আদেশও এর আওতায় চাওয়া হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া সংক্ষেপে: আবেদন করতে হয় হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ারে (Criminal Miscellaneous Jurisdiction)। আদালত সন্তুষ্ট হলে রুল জারি করে এবং উভয় পক্ষের শুনানির পর রুল নিষ্পত্তি করে।

সীমাবদ্ধতা: এটি যখন-তখন ব্যবহারের ক্ষমতা নয়

আদালতের রায়গুলোতে বারবার একটি বিষয় এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যতিক্রমী, নিয়মিত প্রতিকার নয়।

মনে রাখুন: চারটি প্রধান সীমা

  1. অসাধারণ ক্ষমতা: হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে ধারাটিকে অসাধারণ প্রকৃতির বলা হয়েছে।[৩]
  2. সাক্ষ্য মূল্যায়ন নয়: বিচারের আগে বা চলাকালে সাক্ষ্যের তথ্যগত মূল্যায়ন করে মামলা বাতিল করা আদালতের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।[১]
  3. আপিলের বিকল্প নয়: আইনে আপিলের সুযোগ থাকলে সাধারণত সেটিই আগে নিতে হয়। তবে বিশেষ আইনে আপিলের মেয়াদ পার হলে কী হয়, তা নিচের আলাদা সেকশনে দেখুন।[৭]
  4. অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে সীমিত হস্তক্ষেপ: আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তির ভিত্তিতে মামলা শুরুতেই থামিয়ে দেওয়া সাধারণত উচিত নয় বলে একাধিক রায়ে দেখা যায়।[৪][৬][৮]

বিশেষ আইনে আপিলের মেয়াদ পার হলে ৫৬১এ ধারায় আবেদন

সাধারণ নিয়ম হলো, আপিলের সুযোগ থাকলে আগে আপিলই করতে হয়। কিন্তু বিশেষ আইনে আপিলের জন্য নির্দিষ্ট ও কঠোর সময়সীমা থাকে। যেমন বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ৩০ ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়, আদেশ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় ৩০ দিনের মধ্যে। ওই সময় পার হয়ে গেলে প্রশ্ন ওঠে, তখন কি আর কোনো উপায় থাকে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, ৫৬১এ ধারায় আবেদন করা যায়। তবে সেটি স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে নয়, কঠোর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যতিক্রম হিসেবে।

কেন আপিল আর করা যায় না?

হাইকোর্ট বিভাগ মো. শামীম হাওলাদার বনাম রাষ্ট্র মামলায় (ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং ৪৪৪৯৬/২০১৬, রায় ১০.০৮.২০১৭) দেখিয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩৪বি ধারায় এই আইনের প্রাধান্য রয়েছে। এর সঙ্গে তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ৩, ৫ ও ২৯ ধারা মিলিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে বিশেষ আইনে আপিলের যে সময় বেঁধে দেওয়া আছে, তা বাড়ানোর ক্ষমতা কোনো আদালতের নেই। ব্যতিক্রম শুধু সার্টিফায়েড কপি পেতে যে সময় গেছে এবং ভুল ফোরামে যে সময় ব্যয় হয়েছে, তা বাদ দেওয়া।[১০]

তাহলে ৫৬১এ ধারার দরজা খোলা থাকে কেন?

কারণ আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অন্তর্নিহিত ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে, এমনকি বিচার শেষ হওয়ার পরেও, আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে প্রয়োগ করা যায়। মো. শামীম হাওলাদার রায়ে আলোচিত নজিরগুলোর সারকথা নিচে দেওয়া হলো। এগুলো ওই রায়ের বর্ণনা থেকে নেওয়া, তাই মূল রায় (ডিএলআর) দেখে মিলিয়ে নেওয়া ভালো:

মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা বনাম রাষ্ট্র (৪৫ ডিএলআর (এডি) ১৭৫): বিচারিক, আপিল ও রিভিশন, সব ধাপ শেষ করার পর ৫৬১এ ধারায় এসে “সাক্ষ্যহীন মামলা” (no evidence) দেখানো গেলে হাইকোর্ট বিভাগ আবেদন গ্রহণ করতে পারে। (মো. শামীম হাওলাদার রায়ের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত)[১০]
শের আলী বনাম রাষ্ট্র (৪৬ ডিএলআর (এডি) ৬৭): অন্তর্নিহিত ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে, এমনকি বিচার শেষ হওয়ার পরেও প্রয়োগ করা যায়। (মো. শামীম হাওলাদার রায়ের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত)[১০]
আলমগীর হোসেন বনাম রাষ্ট্র (৪৯ ডিএলআর ৬৩০, বৃহত্তর বেঞ্চ): পলাতক থাকা দণ্ডিত ব্যক্তি পরিষ্কার হাতে (clean hands) এসে সাক্ষ্যহীন মামলা বা কোরাম নন জুডিস প্রমাণ করতে পারলে আদালত তার আবেদন গ্রহণ করতে পারে। (মো. শামীম হাওলাদার রায়ের ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে উদ্ধৃত)[১০]

কোন কোন শর্ত পূরণ করতে হবে?

শামীম হাওলাদার মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করা বা করতে না পারা দণ্ডিত ব্যক্তির আবেদন তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তিনি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন যে:

  1. তিনি সরল বিশ্বাসে (bona fide) এসেছেন এবং পরিষ্কার হাতে আদালতে এসেছেন।
  2. মামলাটি হয় সাক্ষ্যহীন, অথবা বিচারিক আদালতের এখতিয়ার ছিল না, অথবা আদালত যথাযথভাবে গঠিত ছিল না (কোরাম নন জুডিস)।

সরল বিশ্বাস প্রমাণে আদালত যেসব বিশেষ ব্যক্তিগত পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েছে:

  • অন্য মামলায় কারাগারে থাকায় এই মামলা সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি।
  • হাজতে থেকে নিয়মিত বিচারে হাজির ছিলেন, কিন্তু রায়ের দিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়নি, ফলে সময়মতো আপিল করতে পারেননি।
  • স্বাস্থ্যের অবস্থা এমন ছিল যে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ বা ওকালতনামায় স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি।
  • অন্য কোনো অনিবার্য কারণ, যা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
আইনজীবীর পরামর্শের দোহাই: আবেদনকারী যদি বলেন যে আইনজীবীর পরামর্শেই তিনি বিচারে অনুপস্থিত ছিলেন, তাহলে আগে আইনজীবীর পেশাগত অবহেলার অভিযোগ বার কাউন্সিলে দিতে হবে, তারপর ৫৬১এ ধারায় আবেদন করতে হবে।

পলাতক আসামির জন্য সতর্কবার্তা

উক্ত মামলায় আবেদনকারী জামিনে থেকে বিচারের একপর্যায়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর ৫৬১এ ধারায় আবেদন করেন। আদালত তাঁর আইনজীবীর ভুল পরামর্শের বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি, কারণ তিনি আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেননি এবং আদালতের প্রস্তাব সত্ত্বেও শোকজ নোটিশ জারিতে সম্মত হননি। ফলে রুল খারিজ হয় এবং জামিন বাতিল করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সময়মতো আপিল না করার পর এই ধারাকে সহজ পথ হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতা বিচারব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

বিশেষ ট্রাইব্যুনালের জন্য নির্দেশনা

একই রায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্যও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  • জামিনে থাকা আসামি হাজির না হলে ট্রাইব্যুনাল হাজিরার তারিখ ঠিক করবে এবং জামিনদারকে আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দেবে। এরপরও হাজির না হলে দ্রুত বিচার শেষ করবে।
  • দণ্ডাদেশের পর আসামির আইনজীবীকে স্পষ্ট জানানো হবে যে আপিলের সময় মাত্র ৩০ দিন এবং এরপর ৫৬১এ ধারার আবেদনও গ্রহণযোগ্য হবে না, এই সতর্কতা আদেশনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে।
সতর্কতা: এটি হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৭ সালের রায়। ওই মামলায় রুল খারিজ হয়েছে এবং সংবিধানের ১০৩(২)(ক) অনুচ্ছেদে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, কারণ আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী কিছু রায় ও ১১১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ছিল। তাই পরবর্তীতে আপিল বিভাগের কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে কি না এবং আপনার মামলার নির্দিষ্ট বিশেষ আইনের বিধান কী, তা অবশ্যই যাচাই করে নিন।

কখন আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

আদালতের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মোটামুটি এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত হস্তক্ষেপে আগ্রহী হয়:

  • এজাহার বা অভিযোগের বক্তব্য সত্য ধরে নিলেও কোনো অপরাধই গঠিত হয় না।
  • মামলা চালানো আইনত নিষিদ্ধ, যেমন প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া আমলে গ্রহণ।
  • মামলাটি স্পষ্টতই হয়রানিমূলক বা বিদ্বেষপ্রসূত।
  • আদালতের প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট অপব্যবহার ঘটেছে।
পরিস্থিতি সাধারণ আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
অভিযোগে অপরাধের উপাদানই নেই হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বেশি
আইনি বাধা আছে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বেশি
সাক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক সাধারণত বিচারেই নিষ্পত্তি হয়
আপিলের সুযোগ আছে আপিলই সাধারণত উপযুক্ত পথ

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

৫৬১এ ধারা কি পেনাল কোডের অংশ?

না। এটি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অংশ। পেনাল কোড ১৮৬০ ভিন্ন একটি আইন।

৫৬১এ ধারায় আবেদন কোথায় করতে হয়?

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ারে।

৫৬১এ ধারায় কি মামলা বাতিল করা যায়?

হ্যাঁ, উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কার্যধারা বাতিল করতে পারে। তবে এটি ব্যতিক্রমী ক্ষমতা এবং আদালত সতর্কভাবে এটি প্রয়োগ করে।

বিশেষ আইনে আপিলের মেয়াদ পার হয়ে গেলে কি ৫৬১এ ধারায় আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ, তবে কঠোর শর্তে। হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায় অনুযায়ী আবেদনকারীকে সরল বিশ্বাস ও পরিষ্কার হাত প্রমাণ করতে হবে এবং দেখাতে হবে যে মামলাটি সাক্ষ্যহীন, অথবা বিচারিক আদালতের এখতিয়ার ছিল না, অথবা আদালত যথাযথভাবে গঠিত ছিল না।

আপিলের পরিবর্তে কি ৫৬১এ ধারায় যাওয়া যায়?

সাধারণত না। আইনে আপিলের সুযোগ থাকলে সেই পথই আগে নিতে হয়, এবং আপিলের বিকল্প হিসেবে এই ধারায় আবেদন আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না বলে রায়ে দেখা যায়।

এই ধারায় কি সাক্ষ্য বিচার করে রায় দেওয়া যায়?

সাধারণত না। সাক্ষ্যের তথ্যগত মূল্যায়ন বিচারিক আদালতের কাজ বলে আদালতের রায়ে দেখা যায়।

উপসংহার

৫৬১এ ধারা ন্যায়বিচারের একটি নিরাপত্তা-ভাল্ব। অন্যায় মামলা বা আদালতের অপব্যবহার থেকে মানুষকে রক্ষা করতে এটি কার্যকর হতে পারে। আবার আদালত বারবার মনে করিয়েছে যে এটি সাধারণ আপিল বা বিচারের বিকল্প নয়। ক্ষমতাটি তাই ব্যবহার করতে হয় বিচক্ষণতা ও সংযমের সঙ্গে।

তথ্যসূত্র: রায়ের লিংক

লেখায় উল্লিখিত আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি নিচের রায় ও বিশ্লেষণ থেকে নেওয়া। প্রতিটি রায়ের পরিস্থিতি আলাদা, তাই নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ তথ্যমূলক লেখা, আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন যোগ্য ফৌজদারি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।