প্রকাশিত: 12 সেপ্টেম্বর, 2025 | লেখক: অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

সূচিপত্র
- ধারা ৩৩-এর মূল বক্তব্য
- মামলা দায়েরের শর্ত
- কোথায় মামলা দায়ের করতে হবে
- মামলা দায়েরের সময়সীমা
- মামলার সম্ভাব্য ফলাফল
- প্রয়োজনে কী করবেন (প্র্যাকটিক্যাল টিপস)
- উপসংহার
ধারা ৩৩-এর মূল বক্তব্য
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ৩৩ সাধারণত চাকরিচ্যুতি, বরখাস্ত বা ছাঁটাই সংক্রান্ত বিরুদ্ধতা ও তাদের পরিণতি নির্ধারণ করে। সংক্ষেপে বলা যায়—যদি কোনো শ্রমিক মনে করেন তাকে বেতন-ভাতা বা চাকরিচ্যুতি সম্পর্কিত কারণে অন্যায়ের শিকার করা হয়েছে, তাহলেই তিনি শ্রম আদালতে থেকে প্রতিকার চাইতে পারেন।
নোট: এখানে দেওয়া ব্যাখ্যা সাধারণ ধারণা প্রদান করে; নির্দিষ্ট মামলা বা আইনি সিদ্ধান্তের জন্য আইনগত পরামর্শ প্রয়োজন।
মামলা দায়েরের শর্ত
ধারা ৩৩ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রধান শর্তগুলো নিচে বुलेট আকারে দেওয়া হলো —
- প্রভাবিত ব্যক্তি হওয়া: আবেদনকারী অবশ্যই সেই শ্রমিক হতে হবে যাকে বরখাস্ত বা ছাঁটাই করা হয়েছে বা যাকে চাকরি সংক্রান্ত কোনো প্রতিকার প্রয়োজন।
- চাকরি-সংক্রান্ত বিরোধ: অভিযোগটি অবশ্যই চাকরি/চাকরিচ্যুতি/বেতন ইত্যাদি কর্মক্ষেত্রে উদ্ভূত বিরোধ হতে হবে — ব্যক্তিগত বিবাদ নয়।
- লিখিত নোটিশ ও অভিযোগ: মামলা দায়েরের আগে যথাসম্ভব নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে আপীল/নোটিশ পাঠানোর প্রচেষ্টা হওয়া উচিত (বহু ক্ষেত্রে আদালত এটি গুরুত্ব দেয়)।
- প্রমাণ ও দলিল: চাকরির নিয়োগপত্র, চাকরি-সংক্রান্ত নোটিশ, যোগাযোগের কপি, পে-স্লিপ ইত্যাদি সংরক্ষণ করা থাকতে হবে।
- আইনি প্রতিনিধিত্ব: প্রয়োজনমতো একজন অভিজ্ঞ শ্রম আইনজীবী নিয়োগ করলে রেজাল্ট ভাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

কোথায় মামলা দায়ের করতে হবে
ধারা ৩৩ সম্পর্কিত মামলা সাধারণত নিম্নলিখিত জায়গাগুলোতে দায়ের করা হয় —
- শ্রম আদালত (Labour Court): প্রধান স্থান; চাকরিচ্যুতি/ছাঁটাই সংক্রান্ত মামলা প্রাথমিকভাবে শ্রম আদালতে দায়ের করতে হয়।
- শ্রম ট্রাইব্যুনাল/আপিল ট্রাইব্যুনাল: যেখানে প্রযোজ্য, শ্রম আদালতের রায়বিরোধী হলে আপিলের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
- অন্যান্য আদালত নয়: সাধারণ দেওয়ানি আদালত/অন্য ফোরামে সাধারণত ধারা ৩৩-এর বিষয়টি আনা উচিত নয় যদি না বিশেষ কারণ থাকে।

মামলা দায়েরের সময়সীমা
ধারা ৩৩ অনুসারে মামলা দায়েরের সময়সীমা সম্পর্কিত সাধারণ নিয়মাবলি:
- ৩০ দিনের নিয়ম: চাকরিচ্যুতি/ছাঁটাই ঘোষণার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মালিকের নিকট আপীল করতে হবে এবং আপীলের তারিখ হতে ৩০ দিন শেষ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়।
- বিলম্বের কারণে: ৩০ দিনের পরে দেয়ালে বাধা পড়লে মামলা গ্রহণ নাও হতে পারে;
- ডকুমেন্টেশন জরুরি: সময়সীমা ও বিলম্ব প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি (চিকিৎসা কাগজ, যোগাযোগ রেকর্ড ইত্যাদি) সংরক্ষণ করা জরুরি।

মামলার সম্ভাব্য ফলাফল
শ্রম আদালত ধারা ৩৩-এর মামলায় সাধারণত যে রায় দিতে পারে —
- পুনর্বহাল (Reinstatement): আদালত আদেশ দিতে পারে যে শ্রমিককে পুনরায় কাজে নেয়া হবে এবং পূর্বের পদবী ও শর্তাবলী পুনরায় স্থাপন করা হবে।
- ক্ষতিপূরণ (Compensation): যদি পুনর্বহাল করা সম্ভব না বা উপযুক্ত না মনে হয়, আদালত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে (মেয়াদ, বেতন ইত্যাদি বিবেচনা করে)।
- মামলা খারিজ: যদি বরখাস্ত/ছাঁটাই বৈধ বলে প্রমাণিত হয়, আদালত আবেদন খারিজ করতে পারে।
- সমঝোতা নির্দেশ: অনেক ক্ষেত্রেই আদালত পক্ষদ্বয়কে সমঝোতায় উতন্ন হতে উত্সাহিত করে বা মধ্যস্থতা করায়।

প্রয়োজনে কী করবেন (প্র্যাকটিক্যাল টিপস)
- তথ্য সংগ্রহ করুন: নিয়োগপত্র, চাকরিচ্যুতি নোটিশ, মেইল/মেসেজ কপি, পে-স্লিপ ও উপস্থিতি রেকর্ড সংরক্ষণ করুন।
- লিখিত অভিযোগ দিন: নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ/বিচার চাওয়ার নোটিশ পাঠান — কপিটি সংরক্ষণ করুন।
- উপযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ: শ্রম আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় শপথ বাস্তবায়ন করুন।
- সময়মত মামলা করুন: ঘটনাস্থল ও বিজ্ঞপ্তির তারিখ লক্ষ্য রেখে ৩০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিন।
- মধ্যস্থতা চেষ্টা: আদালতের বাইরে সমঝোতা সম্ভব হলে তা দ্রুত করতে চেষ্টা করুন — সময় ও খরচ কমে।
উপসংহার
ধারা ৩৩ শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও বরখাস্ত সংক্রান্ত প্রতিকার নিশ্চিত করে। প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে শ্রমিক ন্যায়বিচার পেতে পারেন — বিশেষ করে সময়মত মামলা করা, পর্যাপ্ত দলিল সংগ্রহ ও উপযুক্ত আইনগত নির্দেশনা গ্রহণ করলে সুভল ফল পাওয়া যায়।
প্রয়োজন হলে আপনার কেস-এর নথি দেখে আইনি পরামর্শ চাইতে পারেন।