বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকগণ যে সব ধরনের ছুটি ভোগ করতে পারবে তা নিম্নরূপঃ

ছুটির প্রকারভেদঃ

ক) নৈমিত্তিক ছুটি; (ধারা-১১৫)

খ) অসুস্থতাজনিত ছুটি; (ধারা-১১৬)

গ) মাতৃত্বকালীন ছুটি; (ধারা-৪৬,৪৭ ও বিধি-৩৮)

ঘ) সাপ্তাহিক ছুটি। (ধারা-১০৩)

ঙ) পর্ব ছুটি; (ধারা-১১৮)

চ) মজুরীসহ বার্ষিক ছুটি; (ধারা-১১৭ ও বিধি-১০৭)

ছ) স্বল্পকালীন ছুটি;

জ) ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি; (ধারা-১০৪)

ক) নৈমিত্তিক ছুটিঃ (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১১৫ অনুযায়ী)ঃ

প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে ১০ দিনের নৈমত্তিক ছুটি পাইবার হইবেন, এবং উক্তরূপ ছুটিকোন কারণে ভোগ না করলে উহা জমা থাকবে না এবং কোন বৎসরের ছুটি পরবর্তী বৎসরে ভোগ করা যাইবে না। কোন শ্রমিকের হঠাৎ ছুটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে এ ধরণের ছুটি মঞ্জুর করা হয়ে থাকে। এই ছুটি এক সাথে ০৩ দিনের বেশি মঞ্জুর করা হয় না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এর অধিক পরিমাণ ছুটি শ্রমিককে মঞ্জুর করে থাকে। নৈমিত্তিক ছুটির জন্য শ্রমিকেরা পূর্ণ হারে বেতন পেয়ে থাকে।

প্রত্যেক কর্মচারী/শ্রমিক বছরে পূর্ণ বেতনসহ ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন নিম্নলিখিত শর্তের উপর-

খ) পীড়া/অসুস্থতাজনিত ছুটিঃ (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১১৬ অনুযায়ী)

অসুস্থতাজনিত ছুটিঃ প্রত্যেক কর্মচারী, শ্রমিকগণ বছরে ১৪ দিন অসুস্থতা জনিত ছুটি ভোগ করতে পারবেন নিম্নলিখিত শর্তের ভিত্তিতে-

গ) মাতৃত্বকালীন ছুটি (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ৪৬,৪৭ এবং বিধি ৩৮ অনুযায়ী)ঃ

কোম্পানী মহিলা কর্মীদের জন্য নিম্নলিখিত শর্তানুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করে থাকে।

ঘ) সাপ্তাহিক ছুটি (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১০৩ অনুযায়ী)ঃ

কোন শ্রমিককে শুক্রবার কাজ করতে দেয়া হবে না, যদিনা –

ঙ) পর্ব ছুটিঃ (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১১৮ অনুযায়ী)ঃ

ক) প্রত্যেক শ্রমিককে বছরে অন্ততঃ ১১ (এগার) দিন (কোম্পানীর নীতিমালার উপর নির্ভরশীল)। পর্ব উপলক্ষ্যে মজুরীসহ অবকাশ মঞ্জুর করতে হবে। অনুরূপ পর্বের দিন ও তারিখ কারখানা মালিক নির্ধারিতব্য পদ্ধতি অনুসারে নির্দিষ্ট করবেন।

খ) পর্ব উপলক্ষ্যে যে কোন অবকাশের দিন হলে শ্রমিককে কাজ করানো যেতে পারে কিন্তু এর বিনিময়ে ৫১ ধারা অনুসারে তাকে পূর্ণ মজুরীসহ ক্ষতিপূরণমূলক ০২ (দুই) দিনের অতিরিক্ত এবং একটি বিকল্প ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে।

চ) মজুরীসহ বার্ষিক ছুটি (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১১৭ এবং বিধি ১০৭ অনুযায়ী)ঃ

যে সকল শ্রমিক অত্র কারখানায় বা একই মালিকানাধীন বদলীযোগ্য পদে অব্যাহতভাবে ০১ (এক) বছর চাকুরীর মেয়াদ পূর্ণ করেছে তারা পরবর্তী ১২ (বার) মাসের মধ্যে নিন্মোক্ত হারে মজুরীসহ বার্ষিক ছুটি ভোগ করতে পারবেঃ

অনুরূপ মেয়াদের মধ্যে যে অবকাশ বা ছুটি থাকবে তা আলোচ্য ছুটির অন্তর্ভূক্ত হবে। তবে যদি কোন শ্রমিক এ ছুটি আংশিক বা সম্পর্ণ ভোগ না করে তবে তাহা পরবর্তী বৎসরের পাওনা ছুটির সঙ্গে যোগ হবে। শর্ত হচ্ছে যে, প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৪০ (চল্লিশ) দিন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে ৬০ (ষাট) দিন পর্যন্ত অর্জিত ছুটি জমা থাকবে। উল্লেখিত পরিমাণ ছুটির পর যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের আরও ছুটি পাওনা থাকে তা হলে সেটা তার মওজুদ ছুটির সাথে যুক্ত হবে না।

এ ধরনের ছুটি মঞ্জুরীর বিবরণঃ

সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ছুটি শুরুর কমপক্ষে ০২ (দুই) দিন পূর্বে ছুটির আবেদন পত্র জমা করবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছুটি মঞ্জুর করে তাকে অবহিত করবে। যদি কোন বিশেষ কারণে তার আবেদন মঞ্জুর করা না যায়, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অবহিত করা হবে। নি¤œবর্ণিত কোন কারণে চাকুরীতে ছেদ পড়লেও এ ধারার উদ্দেশ্যে একজন শ্রমিক অব্যাহত চাকুরীর মেয়াদ পূর্ণ করেছে বলে গণ্য হবে।

ক) কোন অবকাশজনিত কারণে অনুপস্থিত থাকলে;

খ) মজুরীসহ ছুটিতে থাকলে;

গ) অসুস্থতা বা দূর্ঘটনার জন্য মজুরীসহ বা মজুরী ছাড়া ছুটিতে থাকলে;

ঘ) অনধিক ১৬ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকলে।

ছ) স্বল্পকালীন ছুটিঃ

কোন শ্রমিক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ব্যক্তিগত কোন বিশেষ প্রয়োজনে বাহিরে যাবার প্রয়োজন হলে তাকে স্বল্পকালীন ছুটি মঞ্জুর করে থাকেন। এ ধরণের ছুটির জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তার ম্যানেজার/ প্রোডাকশন অফিসারকে প্রয়োজনীয়তার কথা জানাবার পর ম্যানেজার/প্রোডাকশন অফিসার শ্রমিকের বাহিরে যাবার অনুমতিপত্র তৈরী ও তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করে। এ জন্য সর্বোচ্চ ৫-৭ মিনিট সময়ের বেশি যাতে ব্যয় না হয় সেজন্য ম্যানেজার/প্রোডাকশন অফিসারকে অবহিত করা আছে। কোন শ্রমিককে স্বল্পকালীন ছুটি প্রদানের জন্য তার বেতন/জমাকৃত ছুটি বা অন্য কোন ছুটি কর্তন করা হয় না।

জ) ক্ষতিপূরণমুলক সাপ্তাহিক ছুটি (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধিত ২০১৩, ধারা ১০৪ অনুযায়ী)ঃ

সাধারণ কর্ম সময় হচ্ছে দৈনিক ৮ঘন্টা। প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করার পর প্রতিটি শ্রমিক একদিন সাপ্তাহিক ছুটি বা বিশ্রাম পায়। কোন ছুটি বা বিশ্রামের দিনে বিশেষ কারণে যদি কোন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয় তবে তাকে বিষয়টি পূর্বেই অবহিত করা হয়। ছুটি বা বিশ্রামের দিন কাজ করার জন্য তাকে ঐ কাজের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করা হয়ে থাকে।

বিধি ১০১ অনুযায়ী-

১) ধারা ১০৩ মোতাবেক কোন শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান সম্ভব না হইলে উক্ত শ্রমিককে তাহার উক্তরূপ ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে;

২) সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে একাধারে ১০(দশ) দিনের অধিক কাজ করানো যাইবে না;

৩) ধারা ১০৪ এর বিধান অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের প্রাপ্য কোন ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে;

৪) শ্রমিকের ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি অনুমোদনের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক উক্তরূপ ছুটির একটি বিজ্ঞপ্তি ধারা ১০৪ মোতাবেক নোটিস বোর্ডে লটকাইয়া রাখিবেন;

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে কোন পরিবর্তন আনয়নের প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট ছুটির তারিখের অন্তত ৩ (তিন) দিন পূর্বে উহা করিতে হইবে।

ছুটি বা অবকাশকালীন মজুরীঃ

শ্রমিকেরা যখন ছুটি বা অবকাশ যাপন করে তখন তাদেরকে নি¤œ বর্ণিত নিয়মে মজুরী প্রদান করা হয়ে থাকেঃ

ক) পূর্ণ মজুরীসহ ছুটির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মাসে গড়ে সে প্রতিদিন কাজের জন্য যে বেতন বা মজুরী পেয়েছে তার সমপরিমাণ মজুরী তাকে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ওভারটাইম ভাতা বা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকলে তা হিসাবে গণ্য হয় না।

খ) অর্ধ বেতনে ছুটির ক্ষেত্রে প্রতিদিন কাজের জন্য অনুচ্ছেদ ‘ক’ এ উল্লেখিত বেতনের দৈনিক হিসাবে অর্ধেক মজুরী পায়।

** শ্রমিকেরা আবেদন করলে ছুটিতে গমণের সময় তাদেরকে অগ্রিম মজুরী দেওয়ার ও বিধান আছে। প্রয়োজন অনুসারে শ্রমিকেরা অগ্রিম মজুরী নিয়ে থাকে।

ছুটি বর্ধিতকরণঃ

ছুটি নেয়ার পদ্ধতিঃ